BN.HARUNYAHYA.COMhttp://bn.harunyahya.combn.harunyahya.com - প্রবন্ধ - সম্প্রতি যোগ হয়েছেbnCopyright (C) 1994 bn.harunyahya.com 1BN.HARUNYAHYA.COMhttp://bn.harunyahya.comhttp://harunyahya.com/assets/images/hy_muhur.png11666একুািকিডশস ডহল আনলি ডেজ বা‌লাদেশ হনূী ডাকনেস

 

http://www.amaderorthonete.com/content/2016/01/11/news0196.htm

http://www.nst.com.my/news/2016/01/121283/executions-will-only-drag-bangladesh-darkness

http://www.jeffersoncorner.com/executions-will-only-drag-bangladesh-into-darkness/

]]>
http://bn.harunyahya.com/bn/প্রবন্ধ/215377/একুািকিডশস-ডহল-আনলি-ডেজ-বা‌লাদেশhttp://bn.harunyahya.com/bn/প্রবন্ধ/215377/একুািকিডশস-ডহল-আনলি-ডেজ-বা‌লাদেশhttp://fs.fmanager.net/Image/objects/6-makaleler/new_straits_times_adnan_oktar_executions_drag_bangladesh_into_darkness2.jpgSun, 31 Jan 2016 13:29:03 +0200
Why an Authoritarian Rule is Against Islam?-Bengali

]]>
http://bn.harunyahya.com/bn/প্রবন্ধ/164243/why-an-authoritarian-rule-ishttp://bn.harunyahya.com/bn/প্রবন্ধ/164243/why-an-authoritarian-rule-ishttp://fs.fmanager.net/Image/objects/6-makaleler/9282_bakip_da_goremedikleriniz_12.jpgSun, 16 Jun 2013 13:20:41 +0300
The nonsense of evolution, which is devoid of any scientific validity, is imposed in schools in many countries of the world-Bengali

]]>
http://bn.harunyahya.com/bn/প্রবন্ধ/164235/the-nonsense-of-evolution-whichhttp://bn.harunyahya.com/bn/প্রবন্ধ/164235/the-nonsense-of-evolution-whichSun, 16 Jun 2013 12:08:06 +0300
Channels That Only Show Animals’ Savage Aspects Are Engaging in Darwinist Propaganda - Bengali

]]>
http://bn.harunyahya.com/bn/প্রবন্ধ/162994/channels-that-only-show-animalshttp://bn.harunyahya.com/bn/প্রবন্ধ/162994/channels-that-only-show-animalshttp://fs.fmanager.net/Image/objects/6-makaleler/9618_indirgenemez_komplekslige_bir_ornek.jpgWed, 22 May 2013 14:03:43 +0300
আমরা শেষ যুগে বাস করছি যেখানে একমুর্হুতেই অতীতের সকল অনাচারের অভিজ্ঞতা অর্জন করা হচ্ছে। আল্লাহ তায়ালার দয়া অনুসারে পৃথিবীতে বসবাসকারী সমস্ত সম্প্রদায়কেই সর্তক করে দেয়া হয়েছিলো। আল্লাহতালার অস্হিত্ব এবং তার ক্ষমতা জানানোর জন্য তার পক্ষ থেকে প্রত্যেক জাতির জন্য একজন দূত প্রেরন করা হয়েছে এবং তারা সবাই সৃষ্টির প্রমান দেখিয়েছেন আল্লাহর আইনের একটি অংশ হিসেবে । প্রত্যেক সম্প্রদায়ের মধ্যেই উল্লেখযোগ্য সংখ্যক অবিশ্বাসীর দল ছিলো যারা সর্বশক্তি দিয়ে প্রেরিত নবী এবং দূতদের বিরোধিতা করত এবং সর্বশক্তিমান আল্লাহর অস্হিত্বকে অস্বীকার করত। সর্বশক্তিমান আল্লাহ এ ধরনের কিছু সম্প্রদায়ের কথা আমাদের কে পবিত্র কুরআন মজীদে বলেছেন।
কুরআন মজীদে বর্নিত অভিজাত সম্প্রদায় যারা সমাজে আল্লাহকে অস্বীকার করেছিলো যাদের কে ধর্মোপদেশ দেয়া হয়েছিলো তাদের প্রত্যেকেই সমাজে পৃথক চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের অধিকারী ছিল । নবী সালিহ (আলাইহিস সালাম) এর সমাজের অবিশ্বাসীরা, তামুদ জাতি, এরা ছিল আত্ন-কেন্দ্রিক প্রতারক যারা ওজন এবং মাপে কম দিত। হজরত লুত (আ:) এর সমাজের অবিশ্বাসীরা নিলর্জ্জভাবে বিকৃত যৌনাচার এবং সমকামীতাকে প্রশয় দিয়েছিলো। যখন মুসা (আ:) এর ধর্মপ্রচারের বক্তব্য ফেরাউনের কাছে পৌছল তখন ফেরাউন এবং তার অনুসারীরা নিজেদের সামাজিক এবং শক্তিশালী সামরিক অবস্হানের জন্য একগুয়েমি ও মহাক্ষমতার ভাব থাকায় মুসা (আ:) কে অস্বীকার করে। স্বগোত্রীয় মূর্তিপুজকরা নবী ইব্রাহিম(আ:) এর আহবান না শুনে , অস্বীকার করে তাকে জ্বলন্ত অগ্নিকুন্ডের মধ্যে নিক্ষেপ করেছিলো ।
সর্বশক্তিমান আল্লাহ সকল নবীদের কে এমনই সব বাধা-বিপত্তির মোকাবিলা করিয়ে এনেছিলেন যা দুনিয়াতে তাদের পরীক্ষার অংশ ছিলো । অনেক নবী একতরফা বিচার পেয়েছেন, অন্যায়ভাবে নিজ দেশ থেকে বিতাড়িত করা হয়েছিলো, গ্রেফতার এমনকি শহীদ পর্যন্ত করা হয়েছিলো । কিন্তু নবীগন এবং সত্যিকারের ঈমানদারগণেরা আল্লাহর দৃষ্টিতে উচ্চাসনে অধিষষ্ঠিত ছিলেন। যারা নবীগণের জন্য বোকামীসুলভ ফাঁদ পেতেছিলো তাদেরকে সবসময়ই এ জগতে এবং পরকালে এক ভয়ংকর শাস্তি ভোগ করতে হয়েছে।
এটা সর্বশক্তিমান আল্লাহর অনুমোদিত, বিশ্বাসী এবং অবিশ্বাসীদের মধ্যে এই বিশাল মেধাগত প্রতিযোগিতা চলবেই এবং টিকে থাকবে শেষ বিচার দিবসের পূর্ব পর্যন্ত আল্লাহ তালার পরীক্ষার অংশ হিসেবে। কিন্তু আল্লাহ পাক সময়কে সৃষ্টি করেছেন শেষ বিচার দিবস পর্যন্ত পৌছতে, শেষ সময় অন্য অর্থে অন্য সকল সময়ের চাইতে ব্যতিক্রম হবে । পবিত্র কুরআনুল কারীমে এবং বিশ্বস্ত হাদীস শরীফে বর্নিত হয়েছে এই সময়টা হবে দুনিয়ায় ইতিহাসে অত্যন্ত বিপথগামীতার যুগ যখন অবিশ্বাসীরা চরমে পৌছবে যা পূর্বে কোনদিন দেখা যায়নি ,যখন আল্লাহ পাককে খোলাখুলি অস্বীকার এবং যখন উচ্ছৃংখলতা, ন্যায়ভ্রষ্টতা এবং সকলধরনের পাপ সর্ব্বোচ্চে পর্যায়ে যাবে।এসময় বিশ্বাসীদের সংখ্যা কমে যাবে এবং আমাদের সর্বশক্তিমান আল্লাহর বিরুদ্ধে অবিশ্বাসীদের চিত্তহীন, অজ্ঞান, মূর্খ বিদ্রোহ চলতেই থাকবে যতদিন না হযরত মাহদী (আলাইহিস সালাম) এবং হযরত
ঈসা (আলাইহিস সালাম) যৌথভাবে ইসলামী নৈতিক মূল্যবোধ পৃথীবিতে প্রতিষ্ঠিত করে বিজয় আনয়ন করেন।
এই বিদ্রোহ , বিপথগমণ, এবং বাড়াবাড়ি এত সুবিস্তৃত, ব্যপক এবং নির্লজ্জ হবে যাতে জোরেসোরে আল্লাহকে অস্বীকার এবং সকল ধরনের পাপকে সাধারন ব্যপার বলে বিবেচনা করা হবে।
সর্বশক্তিমান আল্লাহপাক সুসংবাদ দিয়েছেন যে, হযরত মাহদী ( আলাইহিস সালাম) এবং হযরত ঈসা (আলাইহিস সালাম) এই মহা দু:সময়ে পথপ্রর্দশক হিসেবে আর্বিভূত হবেন । অত:পর, শেষ যুগে , যখন দৃশ্যত বিস্তৃত বিশ্বব্যাপী নৈতিক অবক্ষয় , সকল দুর্বৃত্তি, বিকৃতি একযোগে প্রবলভাবে এবং একই সময় সচেতনভাবেই ঐসব একটি জীবন পদ্ধতি হিসেবে গৃহিত হবে, সর্বশক্তিমান আল্লাহ হযরত ঈসা (আলাইহিস সালাম) , হযরত মাহদী ( আলাইহিস সালাম) কে পাঠাবেন যারা এসব বিশ্বব্যপী পাপ এবং বাড়াবাড়িকে দুর করে বশে বানবেন । শেষ যুগের এই দুই পবিত্র মহিমাময় ব্যক্তি , আল্লাহর দয়ায় জগতের সকল ভ্রান্ত পদ্ধতি এবং ধারনা মহান আল্লাহর মহিমান্বিত ধর্মের যন্ত্রতুল্য হয়ে দুনিয়াতে প্রভাব বিস্তার করবেন , সফল হবেন ।
আমাদের প্রতিপালক একটি আয়াতে বলেছেন কিভাবে পৃথিবীতে হযরত ঈসা (আলাইহিস সালাম) ফিরে আসবেন যখন একজন মানুষ ও তার প্রতি অবিশ্বাসী থাকবে না :
“আর আহলে কিতাবদের মধ্যে যত শ্রেনী রয়েছে তারা সবাই ঈমান আনবে ঈসার উপর তাদের মৃত্যুর পূর্বে। আর কেয়ামতের দিন তাদের জন্য সাক্ষীর উপর সাক্ষী উপস্হিত হবে ।“ (সুরা-নিসা,আয়াত -১৫৯)।
ঐ সময়ের পূর্ব পর্যন্ত, সর্বশক্তিমান আল্লাহ হযরত মাহদী ( আলাইহিস সালাম) কে অধিকন্ত কঠিন পরীক্ষার মধ্য দিয়ে অতিবাহিত করাবেন । হযরত মাহদী ( আলাইহিস সালাম) এর সংগ্রামের ক্ষেত্রটি অতীতের অন্য নবীগণের চাইতে ভিন্ন হবে । হযরত মাহদী ( আলাইহিস সালাম) কে প্রেরন করা হবে সমগ্র বিশ্বের জন্য একজন ধর্মীয় নেতা হিসেবে কেবল মাত্র একটি সম্প্রদায় বা জাতির জন্য নয় । তার সময়ে, পৃথিবী হবে অধিক গোলযোগপূর্ন এবং অতীতের চাইতে অধিক অধ:পতিত। এইসব বাধা-বিপত্তি যা পূর্বতন নবীগণের ক্ষেত্রে ঘটেছে হযরত মাহদী (আলাইহিস সালাম) এর সময় সবগুলো একত্রে ঘটবে।
হযরত মাহদী ( আলাইহিস সালাম) একটি মেধাপূর্ন সংগ্রাম চালাবেন যা কেবলমাত্র একটি সমাজের বিকৃতবুদ্ধি সম্পন্নদের জন্য নয় বরঞ্চ সমগ্র জ্ঞানগর্ভ অসামন্জস্য , অধ:পতন, পাপ এবং অবিশ্বাস । তার সময়টা হবে এমন এক সময় যখন বিশাল সংখ্যক মানুষ যারা ন্যায়ভ্রষ্টতাকে জীবন পথের অবলম্বন হিসেবে মেনে নিবে এমনকি একমাত্র জ্ঞানতত্ত্ব হবে কিভাবে সামরিক, মেধা এবং বস্তুগত মাধ্যম ব্যবহার করে হযরত মাহদী (আলাইহিস সালাম) এর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা যায় । এই কঠিন অবস্হার আবহ বিশেষভাবে সৃষ্টি হবে শুধুমাত্র শেষ যুগের এই পবিত্র আত্নাদ্বয়ের জন্য।
 
শেষযুগেরভয়ংকরনৈতিকপতনেরউৎসইহচ্ছেবির্বতনবাদবাডারউইনইজম 
আমরা যে সময় বাস করছি তা , বিশদভাবে,সম্পূর্নরুপে আমাদের মহানবী(সা:) এর হাদীসে বর্নিত শেষ যুগের সাথে মিলে যায় । আমাদের সময়ের রুঢ় অবস্হাদৃষ্টে সহজেই অনুমেয় বর্তমান সময়ের চাইতে শেষ যুগের পরীক্ষার আবহের ধরন আরো কত ব্যপক এবং তীব্র হবে। এই সময়টা এমন হবে যখন অধিকাংশ মানুষই সম্পূর্ন রুপে নৈতিক গুনাবলীসমুহ যেমন, পরোপকার, সততা, সত্যবাদিতা, ক্ষমা, বিচার, অন্যের দু:খে/শোকে সমব্যথী হওয়া এবং সম্মান করা এসব ছেড়ে দিবে। আমরা বর্তমানে যে সময়ে বাস করছি আক্ষরিক অর্থে মানুষ এখন সময়ের সুযোগসন্ধানী, নির্মমতা বেদনাবোধহীনতাকে জীবনের পথপ্রর্দশক রুপে গ্রহন করেছে। তারা নিজেরা মিথ্যাই বিশ্বাস করে নিয়েছে যে চতুরতা এবং নির্দয়তা ছাড়া টিকে থাকা যাবে না এবং অন্যদের কে ও এটা মেনে নিতে বুঝাচ্ছে ।
অবশ্যই বির্বতনবাদে জীবনের অনৈতিক দর্শন প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল । বির্বতনবাদে একটি বিশ্বাস যা প্রাচীন মিশরীয় এবং সুমেরুয়ীদের মধ্যে সর্বপ্রথম উদ্ভব হয়েছিলো । নবী মুসা (আলাইহিস সালাম) এর বিরুদ্ধে ফেরাউনের নির্বোধ যুদ্ধ তার মনে সুপ্ত বির্বতনবাদী চিন্তা-চেতনার ফসল ছিলো । ফেরাউন দৃঢ়ভাবে দাবী করেছিলো জীবনের সূচনা আপনা আপনি স্ভাভাবিক ভাবেই নীলনদের কাদা থেকে শুরু হয়েছে এবং সে একমাত্র বস্তুবাদে বিশ্বাস করত আর তাতেই নিজেকে সর্বময় ক্ষমতা এবং কর্তৃত্বের অধিকারী ভাবত। উত্তরাধিকারী সুত্রে প্রাপ্ত ভ্রান্ত বিশ্বাসই ফেরাউনকে ঐ সময়ের চরম অবিশ্বাসী হিসেবে তৈরী করেছিলো এবং সে সারা জীবন নবী মুসা (আলাইহিস সালাম) এর বিরোধীতা এবং তার জীবনের প্রতি হুমকি স্বরুপ ছিল। কিন্তু তার মৃত্যুর সময় , শেষ পর্যন্ত যখন সে মহান আল্লাহ তালার অসীম ক্ষমতা বুঝতে পারল, সে বলেছিলো “ আমি বিশ্বাস করি “ আমাদের প্রতিপালক নিম্নের আয়াতে এভাবে বলেন :
“আর বনি-ইসরাঈলকে আমি পার করে দিয়েছি সাগর। তারপর তাদের পশ্চাদ্ধাবন করেছে ফেরাউন ও তার সৈন্য বাহিনী, দুরাচার এবং ক্রমাগত বাড়াবাড়ির উদ্দেশ্যে। এমন কি যখন তারা ডুবতে আরম্ভ করল, তখন বলল, এবার বিশ্বাস করে নিচ্ছি যে, কোন মা’বুদ নেই তাঁকে ছাড়া যাঁর উপর ঈমান এনেছে বনি-ইসরাঈলরা । বস্তুত আমি ও তাঁরই অনুগতদের অন্তর্ভুক্ত।
এখন, এ কথা বলছ ! অথচ তুমি ইতিপূর্বে না-ফরমানি করেছিলে । এবং পথভ্রষ্টদেরই অন্তর্ভুক্ত ছিলে।
অতএব আজকের দিনে বাঁচিয়ে দিচ্ছি আমি তোমার দেহকে যাতে তোমার পশ্চাদবর্তীদের জন্য নির্দশন হতে পারে। আর নি:সন্দেহে বহু লোক আমার মহাশক্তির প্রতি লক্ষ্য করে না ।“ (সুর ইউনুস, আয়াত -৯০-৯২)
মৃত্যু সময় ফেরাউন ভেবেছিলো যে “ বিশ্বাস এনেছি” এ কথা বলে মুক্তি অর্জন করতে পারবে। সর্বশক্তিমান আল্লাহ তার দেহ কে বস্তুগতভাবে রক্ষা করেছেন । যা সে বিশ্বাস করত বস্তুবাদীতায় অন্য কথায় তার শারীরিক দেহ । ফেরাউন নিজের শ্রেষ্ঠত্ব অনুভবের কারনে এবং নিজেকে মিথ্যা প্রভু হিসেবে চালানোর সুযোগ নিয়েছিলো ফলত সে মহান আল্লাহর মহিমান্বিত সত্ত্বার প্রতি কৃতজ্ঞতাবোধ এবং আল্লাহর অসীম অস্হিত্বকে যথাযথ ভাবে স্বীকার করতে ব্যর্থ হয়েছিলো। এবং তার নিজ বিশ্বাসের সাথে একাত্বতা বজায় রেখে তার দেহকে একটি বস্তুতে পরিনত করে সংরক্ষন করা হয়েছে পরর্বতী মানষের জন্য সাবধানতা স্বরুপ। এটা আল্লাহ তালার আরো একটি মহা অলৌকিক নির্দশন।   
বির্বতনবাদ, যাতে ফেরাউন বিশ্বাস করত এবং অস্হিত্বের জন্য একমাত্র শক্তি হিসেবে গন্য করত।   জীবনযাত্রার জন্য একমাত্র অস্হিত্ববাদকেই শক্তি হিসেবে মানত, আজ তা সমগ্র বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে চরম যন্ত্রনার কারন হয়ে জগতকে শাসন করে চলেছে। পৃথিবীর বহুদেশের হাজারো মানুষ শৈশব থেকেই এটা শিক্ষা পেয়ে আসছে যে, সমস্ত প্রানী কূল দৈবাৎ সৃষ্টি হয়েছে। তারা যেখানেই যাক না কেন “ফ্যামিলি ট্রি” নামক একটি ভ্রান্ত বিশ্বাস যাতে বানর ধীরে ধীরে মানুষে রুপ নিয়েছে এরুপ একটি মিথ্যা ধারনা নিয়েই বেড়ে উঠে। এবং সর্বদা টেলিভিসনে, স্কুলে, পেপার-পত্রিকায় , সিনেমায়, কার্টুনে এবং বিজ্ঞাপন সমুহে এই মতবাদ শেখানো হচ্ছে।
দেশের প্রচলিত আইনে বির্বতনবাদের বিরোধিতা করা নিষিদ্ধ। যদি কেউ ডারউইনের মতবাদ অস্বীকার করে তাকে তাৎক্ষনিকভাবে চাকুরিচ্যুত করা হয়, সমস্ত অর্থনৈতিক সম্পদ হারায়, তাকে সমাজ থেকে বের করে দেয়া হয় এবং শীঘ্রই সে তার চতুর্পাশের লোকজন, সামাজিক মর্যাদা, এমনকি সেই সব লোকজনকে হারায় যাদের কে সে বন্ধু ভেবে আসছিল । এতেই দেখা যায় ডারউইনবাদী মিথ্যা স্বৈরতন্ত্র কত বিস্ময়কর ভাবে সমগ্র পৃথিবীকে গ্রাস করে নিয়েছে । 
এই মিথ্যা আগ্রাসনই হচ্ছে শেষ যুগের সকল ধ্বংসের উৎস । এ কারনেই ইসলামী বিজ্ঞ ব্যক্তিত্ব বদিউজ্জামান সাইয়েদ নুরসী বলেছেন :
হযরত মাহদী ( আলাইহিস সালাম) এর প্রথম কথাই হবে শঠতাপূর্ন পরিকণ্পনা, ডারউইনবাদ এবং বস্তুবাদ দুর করা।
এবং তিনি হযরত মাহদী ( আলাইহিস সালাম) এর ৩ টি প্রধান দায়িত্ব থাকবে, প্রথমত , ঈমান কে রক্ষা করা এমন ভাবে যাতে বস্তুবাদী দর্শন / ধ্যান-ধারনা যা মানুষের মাঝে বিজ্ঞান এবং দর্শনের প্রভাবে বির্বতনবাদ, বস্তুবাদ এবং নাষ্তিকতার দ্বারা মানুষের জন্য চরম যন্ত্রনার কারন হয়েছে । বিশ্বাসদের কে ভ্রান্ত মতার্দশ থেকে রক্ষা করা । ( এমিরদাগ আদেনদাম, পৃষ্ঠা-২৫৯)
শেষ যুগে, বির্বতনবাদী স্বৈরতন্ত্রের প্রচন্ড চাপে অধিকাংশ মানুষই ভয়ানক নৈতিক অধপতনে নিমজ্জিত হবে । এই সময়ে , হত্যা, যুদ্ধ, ধর্ম বা জাতিগত কারনে অত্যাচার, চরমপন্হিতা এবং অনৈতিকতা আইনানুগ স্বীকৃতি পাবে এবং অতি দ্রুত ছড়িয়ে পড়বে, ইহার সর্ম্পূন নীতিগত ভিত্তিই এসেছে বির্বতনবাদ হতে। যখনই মানুষ ভেবেছে এবং ধরেই নিয়েছে যে অন্য সে প্রানী থেকে এসেছে এবং অন্ধের মত বির্বতনবাদের মূলসূত্র অনুসারে বিশ্বাস করেছে যে “ সবল দূর্বলকে চুর্ণ করে ফেলে” তখনই সমাজ জীবনে তারা এটা কে প্রয়োগ করতে কালক্ষেপন করেনি । পরিশেষে বলা যায় , বির্বতনবাদই হচ্ছে আজকের চরম নির্দয়তা, বিশ্বাস ঘাতকতা, সুযোগসন্ধানী আচরন, স্বার্থপরতা, নিরাপত্তাহীনতা, মনুষ্যত্বের অভাব, ঘৃনা এবং শত্রুতা। এগুলো আরো সবিস্তারে পরর্বতী অনুচ্ছেদে বর্নিত হয়েছে যা শেষ যুগের নৈতিক অবক্ষয় সর্ম্পকে বিশদ আলোচনায়।
 
]]>
http://bn.harunyahya.com/bn/প্রবন্ধ/22851/আমরা-শেষ-যুগে-বাস-করছিhttp://bn.harunyahya.com/bn/প্রবন্ধ/22851/আমরা-শেষ-যুগে-বাস-করছিhttp://fs.fmanager.net/Image/objects/6-makaleler/21102_Yasadigimiz_donem_gecmis_kavimlerin_tum_azginliklarinin_topyekun_yasandigi_ahir_zamandir2.jpgFri, 16 Apr 2010 12:08:52 +0300
ডারউইনবাদীরা আমাদের মস্তিষ্কে উদ্ভুত জগৎ দেখে ভীত ও হতবুদ্ধ হয়ে গেছেকোন সংশোধন লক্ষ্য করলে   আমাদের জানাতে পারেন ।
 
'সানসুরুজ'(আনসেনসর্ড) নামক একটি অনুষ্ঠান যেটি ২০০৯ এর ১৪ই আগষ্ট প্রচারিত হয় সেখানে এ বিষয়টি আবার পরিস্কারভাবে দেখিয়ে দেয়া হয়েছে। যে ধারণাটি ডারউইনবাদীদেরকে ভীতসন্ত্রস্ত করে ফেলেছে তা হল 'আমাদের মস্তিষ্কের ভিতরের জগৎ':
 
(আলোক রশ্মির) ফোটন আমাদের চোখে আপতিত হয়, এরপর চোখ থেকে মস্তিষ্কে একটি বৈদ্যুতিক সংকেত পরিবাহিত হয়। বৈদ্যুতিক সংকেতটি চোখ থেকে যাত্রা করে সাইট সেন্টার(sight center) নামে এমন একটি জায়গায় পৌছায় যার আকার একটি মসুর দানার সমান। এরপর সেই মসুরের দানা আকৃতির স্থানে একটি মানসিক চিত্রকল্প(image) তৈরী হয়। সেখানেএকটা চোখ আছে যেটি এই চিত্রকল্পের দিকে অবলোকন করে। প্রকৃতপক্ষে সেই চোখটিই হল পূর্ণাঙ্গ চোখ। এই চোখটিই এর নিকট পরিবাহিত বৈদ্যুতিক সংকেতকে দেখে পূর্ণ গভীরতা ও ঔজ্জ্বল্য সহকারে, জীবন্তভাবে, চলন্ত অবস্থায়, সকল প্রকার রঙে এবং ত্রিমাত্রিকভাবে। অথচ সেই স্থানটি কয়লার ন্যায় কালো। সাইট সেন্টার এবং মস্তিষ্কের ভিতরের অংশ- যেখানে বৈদ্যুতিক সংকেত পৌছায় এর পুরোটাই কালো। অথচ সেখানে যে চোখটি দেখে সেটি দেখে একটি সম্পুর্ণ এবং ক্রিস্টালের মত স্বচ্ছ চিত্র, যেটি যেকোন উন্নত প্রযুক্তির টেলিভিশনের চেয়ে অনেক ভালো। এবং এই চিত্রগুলোকে সে এমনভাবে অনুদিত করে যে আমরা এর মাধ্যমে দু:খ, আনন্দ, ভালোবাসা এবং পছন্দঅপছন্দ অনুভব করি, অথবা আমরা এগুলোকে নিয়ে বিশ্লেষণ করতে পারি, এগুলো মনে রাখতে পারি বা এখান থেকে শিক্ষা নিতে পারি।
এখানে একটি মুজিযা সংঘটিত হচ্ছে।
 
দেখার যোগ্যতাহীন পরমানুসমূহের পক্ষে অসচেতনভাবে ও দৈবাৎ ঘটনাক্রমে একত্রিত হয়ে এমন একটি দর্শনতন্ত্র তৈরী করা সম্ভব নয় যে সবচাইতে পূর্ণাঙ্গ ক্যামেরাও তার মত সুন্দর চিত্র তৈরী করতে পারে না এবং যেটি সবচেয়ে উন্নত ত্রিমাত্রিক সিনেমা বা টেলিভিশন সিস্টেমের চেয়েও তীক্ষ্ণতর ও রঙিনতর চিত্র প্রদান করে।
পরমানু সমূহ অচেতন। এগুলোর কোন শ্রবণশক্তি নেই। অতএব এদের পক্ষে দৈবাৎ এমন একটি শ্রবণতন্ত্র তৈরী করা সম্ভব নয় যেটি পূর্ণাঙ্গ তীক্ষ্ণ ও মাল্টি ডাইমেনসনাল শব্দ উৎপাদনকারী সবচেয়ে উন্নত স্টেরিও সিস্টেম থেকেও অনেক উর্দ্ধে ।
 
যে পরমাণুগুলোর পক্ষে সম্ভব নয় কোন কিছুর ঘ্রাণ নেয়া তারা দৈবাৎ এমন কোন ঘ্রাণতন্ত্র তৈরী করতে পারবে না যেটা গোলাপের গন্ধ উপলব্ধি করতে পারে। আবার যে পরমানুর নেই কোন গরম, ঠান্ডা বা শক্তনরম বোঝার ক্ষমতা তারা দৈবাৎ স্পর্শের অনুভূতি তৈরী করবে এটা অসম্ভব।
 
অচেতন পরমাণু যারা কিনা নিজেদের অস্তিত্ব সম্পর্কে উপলব্ধি রাখে না তাদের পক্ষে সম্ভব নয় চান্সের মাধ্যমে এমন মানুষে পরিণত হওয়া যারা সুর উপভোগ করে, সব রকমের খাবারের স্বাদ সম্পর্কে জানে, যাদের স্মৃতি আছে, যারা চিন্তা ও অনুভব করে, যারা পরিকল্পনা করে, নিজেদের মনে নিজেদের স্মৃতিগুলোকে জীবন দান করতে পারে, হাসিখুশী এবং সুখী সময় উপভোগ করে এবং এ রকম আরও শত শত বৈশিষ্ট্য বহন করে অথবা এমন একজন বিজ্ঞানীতে পরিনত হয় যে কিনা সেই পরমাণুরই গঠন অনুসন্ধান করতে থাকে।
 
যে চোখটি- মস্তিষ্কের ভিতরে বাইরের উজ্জ্বল, চলমান এবং ত্রিমাত্রিক জগৎ কে দেখতে পায় তা হল আত্মা। আত্মা সম্পূর্ণরুপে মেটাফিজিক্যাল এবং কোন বস্তুবাদী চিন্তা দিয়ে একে ব্যাখ্যা করা যায় না। ফলে বস্তুবাদী, নাস্তিক ও বিবর্তনবাদী ব্যক্তিরা যারা আত্মার উপস্থিতিসহ বাকী সবকিছুর বস্তুকেন্দ্রিক ব্যাখ্যা দেয়ার চেষ্টা করে তারা পুরো ভীতিকর পরিস্থিতিতে পরে গেছে। সর্বশক্তিমান আল্লাহর দেয়া আত্মা ডারউইনবাদ এবং ডারউইনবাদীদের উপস্থাপিত বুদ্ধির জগৎ কে বিলুপ্ত করে দেয়। এ কারণেই ডারউইনবাদীরা এই ইস্যুগুলো নিয়ে আলোচনা করতে চায় না এবং দ্রুত একে এরিয়ে যেতে চায় যেমন তারা চেয়েছে উক্ত অনুষ্ঠানে। যে কেউ এদেরকে এই ইস্যু থেকে পালিয়ে যেতে দেখবে। কেননা তারা সবসময়ই আমাদের মস্তিষ্কের ভিতরের চোখটির পূর্ণতার সামনে পরাজিত হবে। যেই চোখটি তৈরী করেছেন মহান আল্লাহ।
 ]]>
http://bn.harunyahya.com/bn/প্রবন্ধ/21806/ডারউইনবাদীরা-আমাদের-মস্তিষ্কে-উদ্ভুত-জগৎhttp://bn.harunyahya.com/bn/প্রবন্ধ/21806/ডারউইনবাদীরা-আমাদের-মস্তিষ্কে-উদ্ভুত-জগৎhttp://fs.fmanager.net/Image/objects/6-makaleler/16793_Darwinistler_beynimizde_olusan_dunyanin_varligini_dehset_ve_endise_ile_karsiliyorlar.jpgThu, 18 Mar 2010 16:44:32 +0200
আল্লাহই প্রকৃত বন্ধু, যিনি তার বান্দাহর সর্বপ্রকার কল্যাণ চানকোন সংশোধন লক্ষ্য করলে   আমাদের জানাতে পারেন ।
 
আল্লাহ তার বান্দাহদের জন্য অসংখ্য নিয়ামত দিয়েছেন এবং পৃথিবীর জীবনকে তাদের জন্য একটি পরীক্ষার পর্যায় হিসেবে সৃষ্টি করেছেন। বেচে থাকার জন্য মানুষের যে সকল জিনিস প্রয়োজন পড়বে এবং তারা যা পছন্দ করবে তা তাদেরকে সৃষ্টি করার অনেক আগেই প্রস্তুত করে রাখা হয়েছে। যে বাতাস দিয়ে তারা শ্বাসপ্রশ্বাস নেয়, যে পাখিগুলো আকাশে উড়ে (যার প্রতিটির একটি অপরটি থেকে সুন্দর), দৃষ্টিনন্দন ও অসংখ্য বৈচিত্রপূর্ণ গাছপালা, প্রস্ফুটিত ফুল যা অত্যন্ত সুন্দর ও অনন্য নিয়ামত, যে লোকগুলোকে তারা ভালোবাসে, অত্যন্ত সুন্দর কোমল প্রাণীগুলো যেগুলো হৃদয়ে আনন্দের দোলা দিয়ে যায় এবং আরও অসংখ্য বহু গুনাবলি সম্পন্ন প্রাণী, এ সবই আল্লাহ নিজে সৃষ্টি করেছেন।
 
মানুষ যখন পৃথিবীতে জন্ম নেয় সে তার প্রয়োজনীয় সকল উপাদান সেখানে প্রস্তুত দেখতে পায়। এখানে প্রতিটি জিনিস তার যথোপযুক্ত আকৃতি ও জৈবনিক অবস্হা সহ বিরাজ করে। ফলমুল, খাদ্য, এবং পুরো জগতের প্রতিটি বৈশিষ্ট্য এমনভাবে তৈরী যেন মানুষের অবস্হান এখানে সম্ভব হয়। কিন্তু মানুষকে কখনই এসব অর্জনের চেষ্টায় নিয়োজিত দেখা যায় না। তারা একটি চমৎকার ভারসাম্য ও সহনশীল ব্যবস্থার সম্মুখে এসে উপস্থিত। আল্লাহ এ সব কিছুই তার ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র বৈশিষ্ট্যসহ সৃষ্টি করেছেন। এমনকি পৃথিবীর এই পরীক্ষাগারের জন্য আল্লাহ তার নবীগনের মাধ্যমে একটি পবিত্র গ্রন্থ প্রেরণ করেছেন, যেখানে মানুষকে পথ দেখানোর জন্য প্রয়োজনীয় সকল দিক নির্দেশনা দেয়া আছে। এই পবিত্র গ্রন্থে একটি মানুষের জীবনে যে সকল বিষয়ের সম্মুখীন হতে হয়, তার প্রতিটি বিষয়ই উল্লিখিত আছে এবং সেগুলো আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের পন্হা সুস্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করে:
...আমরাকোনকিছুইবইথেকেবাদদেইনি-এরপরঅবশ্যইতাদেরকেতাদেররবেরসামনেহাজিরহতেহবে।‍‍‍ (সূরাআল-আনআ’ম, ৩৮)
আল্লাহ প্রেরিত এই পথ নির্দেশিকা ভাল ও খারাপের মধ্যে পার্থক্য করে, এটি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য উপযুক্ত আচার আচরণ দেখিয়ে দেয়,  এটি প্রজ্ঞাময়, এবং এটি যে সকল বিষয় জানা দরকার তার প্রত্যেকটির ব্যাখ্যা উপস্থাপন করে:
 
এটি একটি কিতাব যা আমরা আপনার উপর পেরণ করেছি যেন আপনি মানুষকে তাদের প্রভুর অনুমতিক্রমে অন্ধকার থেকে আলোর দিকে নিয়ে আসতে পারেন, নিয়ে আসতে পারেন তাদের কে সর্বশক্তিমান ও সর্বপ্রশংসিত প্রভুর পথে। (সূরা ইব্রাহিম, ১)
 

 
মানুষ যখন তার প্রয়োজনীয় সবকিছু বিস্তারিত ও পুঙ্খানুপুঙ্খ বৈশিষ্ট্য সহকারে তৈরী পাচ্ছে, তখন এটা তাদের দায়িত্ব যে তারা তাদের জীবনকে কোরআনের মূল্যবোধ অনুযায়ী, আল্লাহর হুকুম ও পরামর্শ মোতাবেক পরিচালিত করবে। আল্লাহর তার বান্দাহর প্রকৃত বন্ধু কেননা তিনি তার বান্দাহদের জন্য তার অসীম প্রজ্ঞা দিয়ে সবচেয়ে সুন্দর বৈশিষ্ট্যাবলী তৈরী করেছেন। সুতরাং একজন বান্দাহ যে আল্লাহর দিকে ফিরে আসছে তার উচিৎ তার জীবনকে এমনভাবে গঠন করা যেন সে তার রক্ষাকর্তা মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করতে পারে। তিনিই আল্লাহ যাকে ভালবাসা যায়, যাকে স্মরণ করা যায়, যাকে প্রশংসা করা যায়, যার উপর আস্থা রাখা যায়, যাকে সকল প্রাপ্তির অধিকারী বলা যায় এবং যার সাথে প্রকৃত বন্ধুত্ব স্থাপন করা যায় কারণ তিনি মানুষকে সবকিছু দিয়েছেন তাদের জানার আগেই। যারা জানে যে আল্লাহই একমাত্র বন্ধু, যারা তার ক্ষমতা ও শক্তির কাছে আশ্রয় নেয় এবং যারা তার চূড়ান্ত প্রজ্ঞা ও দয়ার উপর ভরসা করে আল্লাহ তাদের রক্ষক হয়ে যান।
 
একজন ব্যক্তি যে জানে যে আল্লাহর প্রতিটি সৃষ্টিই উত্তম, উন্নয়নশীল, এবং আল্লাহর চূড়ান্ত জ্ঞানের বহি:প্রকাশ, সে কেবল তার রবের উপরই ভরসা করতে পারে এবং কেবল তার নিকটই আশ্রয় প্রার্থনা করতে পারে। সুতরাং, পৃথিবী নামক এই পরীক্ষাগারে, একজন বিশ্বাসীর মৌলিক বৈশিষ্ট্য হওয়া উচিৎ ‘আল্লাহর উপর নির্ভরতা'। আল্লাহর উপর নির্ভরতার অর্থ হল, আল্লাহর প্রতি একজন ব্যক্তির ভরসা স্থাপন এবং তাঁকে তার বিশ্বস্ত বন্ধু হিসেবে মেনে নেয়া। একজন মুসলিম যদি বুঝতে সক্ষম হয় যে তার কাটানো প্রতিটি মূহুর্ত ও তার সাথে সংঘটিত প্রতিটি ঘটনা মহান আল্লাহর সৃষ্টি তাহলে আল্লাহর উপর গভীর প্রত্যয় রাখা তার বিশ্বাসের অন্যতম প্রয়োজনীয় উপাদানে পরিণত হয়।  আল্লাহ যিনি মানুষকে সৃষ্টি করেছেন শূণ্য থেকে এবং যিনি তার রহমতের মাধ্যমে সবসময় মানুষকে ঘিরে রেখেছেন তার সামনে আত্মসমর্পন করা--এটি হল বিশ্বাসের সবচেয়ে দরকারী বৈশিষ্ট্যগুলোর একটি। যিনি সার্বক্ষনিক ও সীমাহীন উত্তম মূল্যবোধ দিয়ে ভালত্ব তৈরী করে চলেছেন সেই মহান প্রভু আল্লাহকে ছাড়া অন্য কাউকে বিশ্বস্ত বন্ধু হিসেবে গ্রহন করা যেতে পারে না। এ কারণে, আল্লাহই একমাত্র সত্ত্বা যার উপর একজন নিষ্ঠাবন মুসলিম নির্ভর করতে পারে। আল্লাহ আদেশ করছেন: “এবং তোমরা আল্লাহর উপর ভরসা রাখ। আল্লাহই তোমার রক্ষাকারী হিসেবে যথ্ষ্টে”। (সূরা আল-আহযাব, ৩)         
]]>
http://bn.harunyahya.com/bn/প্রবন্ধ/21803/আল্লাহই-প্রকৃত-বন্ধু-যিনি-তারhttp://bn.harunyahya.com/bn/প্রবন্ধ/21803/আল্লাহই-প্রকৃত-বন্ধু-যিনি-তারhttp://fs.fmanager.net/Image/objects/23-guncel-yorumlar/16844_gercek_dost_kullari_icin_hep_guzellik_isteyen_allah_tir.jpgThu, 18 Mar 2010 16:16:31 +0200
নিন্দার মাধ্যমে সন্ত্রাস বন্ধ করা যাবে না; সন্ত্রাস বন্ধ করতে হলে আগে অবশ্যই ডারউইনবাদী শিক্ষা বন্ধ করতে হবেকোন সংশোধন লক্ষ্য করলে   আমাদের জানাতে পারেন ।
 
পৃথিবীর অনেক দেশই আজ সার্বক্ষণিক সন্ত্রাসের হুমকির মুখে সময় পার করছে। এই সন্ত্রাসী উৎপাত বহু বছর যাবৎ তাদের ধূর্ত প্রকৃতির গুপ্ত হামলা ও প্রাণঘাতী কৌশলের মাধ্যমে পৃথিবীর অনেক পুরুষ, মহিলা, শিশু, গ্রাম্য লোক ও সেনাবাহিনীর সেনাদের হঠাৎ ও অদেখা মৃত্যু বা পঙ্গুত্বের কারণ হিসেবে কাজ করে চলেছে। এর বিপরীতে যে প্রতিরোধ ব্যবস্থাগুলো নেয়া হয়েছে সেগুলো কখনই প্রকৃত সমাধান উপস্থাপন করেনি। সন্ত্রাসের রক্তাক্ত কার্যক্রম অতীতে যে দেশগুলোকে আক্রান্ত করেছিল আজও সেখানে তারা তাদের ধূর্ত প্রকৃতির সন্ত্রাসী কৌশল প্রয়োগ করে চলেছে।
 
পৃথিবীব্যপী আজ যে কাপুরুষোচিত আঘাত ও ত্রাস ছড়ানো হচ্ছে নিয়মিতই তার নিন্দা করা হচ্ছে এবং প্রতিটি নতুন আক্রমনই অভিশপ্ত হচ্ছে। কিন্তু প্রতিনিয়ত সন্ত্রাসীর হামলার নিন্দা করে কোন উদ্দেশ্যটি হাসিল হয়েছে? সন্ত্রাসী হামলার স্বীকার দেশগুলোতে শুধু হামলাকারীদের অভিযুক্ত করা বা নিন্দা করার মাধ্যমে কখনও কোন সুনির্দিষ্ট সমাধান দেয়া সম্ভব হয়েছে কি? কখনও এটা নিত্যনতুন সন্ত্রাসী আঘাত প্রতিহত করতে পেরেছে? সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে শুধু মুখে সমালোচনা করা কোন সুনির্দিষ্ট সমাধান নয় এবং সম্ভবত এই ধরণের আঘাতের যে সকল জবাব দেয়া যেতে পারে তার মধ্যে দূর্বলতম। সন্ত্রাসের প্রকৃত জবাব দিতে গেলে দরকার বাস্তবমুখী পদক্ষেপ নেয়া। সন্ত্রাসকে সমূলে উৎপাটনের জন্য দরকার সন্ত্রাসের আদর্শের গভীরে প্রবেশ করা। এই পদক্ষেপ নেয়া তখনই সম্ভব হবে যখন কমিউনিস্ট ত্রাসের উৎপাদনের ক্ষেত্রগুলোকে শুকিয়ে দেয়া যাবে।
 
সন্ত্রাসীদের একটি দর্শণ আছে। সে দর্শণটি হল দ্বান্দিক বস্তুবাদ। এটির মূল ডারউইনবাদী শিক্ষায় প্রোথিত। যদি ডারউইনবাদী শিক্ষা বিলুপ্ত করা না যায় এবং এর মাধ্যমে মার্ক্সিজম ও বস্তুবাদকে উৎখাত করা না যায় তাহলে এটি প্রতিনিয়ত সন্ত্রাসকে উসকে দিতে থাকবে। এজন্য এই দর্শণকে সম্পূর্ণ উৎখাত করা এবং এই আদর্শের ভিত্তি তথা ডারউইনবাদের বিপরীতে মানুষকে শিক্ষিত করা আজ জরুরী হয়ে পরেছে।
 
একদিকে সন্ত্রাসের নিন্দা করা ও সন্ত্রাসের স্বীকারদের জন্য দু:খ করা অপর দিকে স্কুলগুলোতে ডারউইনবাদ শিক্ষা দেয়া একটা মারাত্মক ভুল। ডারউইনবাদ কমিউনিস্ট ত্রাস কে উৎসাহিত করা ছাড়া আর কোন কাজ সম্পাদন করে না। ডারউইনবাদ কমিউনিস্ট আদর্শের উৎসমূলে আছে জেনেও এর প্রতি অবজ্ঞা করা হল স্বয়ং সন্ত্রাসবাদের প্রতি অবজ্ঞা প্রদর্শন করা। যতক্ষন স্কুলগুলোতে ডারউইনবাদ শিক্ষা দেয়া হবে ততক্ষণ সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ঘৃণা পোষণ করে কোন লাভ নেই।
 
ডারউইনবাদী আদর্শ একটি পুরোনো তত্ত্বের উপর ভিত্তি করে নির্মিত। এটি গত ১৫০ বছর যাবৎ রক্তক্ষরণ করে চলেছে এবং এর মিথ্যা প্রচারণার মাধ্যমে মানুষকে ধোকা দিয়ে যাচ্ছে। প্রতিটি স্কুলের প্রতিটি তরুণকে এটা শেখানো ও দেখিয়ে দেয়া দরকার যে এই তত্ত্বটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ধোকার উপর প্রতিষ্ঠিত । তাদেরকে অবশ্যই জানাতে হবে যে দ্বান্দিক বস্তুবাদের দর্শণ এবং এর ধরে নেয়া বৈজ্ঞানিক ভিত্তি ডারউইনবাদ হল কতগুলো মিথ্যা বিশ্বাস। এরপরই কেবল বিশ্বময় সন্ত্রাসবাদের বিপরীতে বাস্তবমুখী ও কার্যকরী ব্যবস্থা নেয়া যাবে। শুধুমাত্র তখনই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থাগুলো স্থায়ী হবে এবং স্থায়ী ফল আনবে। অন্য কোন কৌশলই এই প্রকাশ্য আক্রমনের সমাপ্তি টানতে পারবে না। সন্ত্রাসকে বন্ধ করতে হলে এর অত্যাবশ্যক ধমণীগুলোকে কেটে ফেলতে হবে এবং এর বুদ্ধিবৃত্তিক কাঠামোকে ভেঙ্গে দিতে হবে।
 ]]>
http://bn.harunyahya.com/bn/প্রবন্ধ/21800/নিন্দার-মাধ্যমে-সন্ত্রাস-বন্ধ-করাhttp://bn.harunyahya.com/bn/প্রবন্ধ/21800/নিন্দার-মাধ্যমে-সন্ত্রাস-বন্ধ-করাhttp://fs.fmanager.net/Image/objects/6-makaleler/9138_teror_kinanarak_ortadan_kalkmaz_teroru_yok_etmek_icin_darwinist_egitime_son_verilmelidir.jpgThu, 18 Mar 2010 16:05:09 +0200
সবকিছুই ভাগ্যে লিপিবদ্ধ আছেকোন সংশোধন লক্ষ্য করলে   আমাদের জানাতে পারেন ।
 
একজন ব্যক্তির জীবনে যা কিছু ঘটে তার সবকিছুই ঘটে আল্লাহ কতৃক নির্ধারিত ভাগ্য অনুসারে। এ ব্যাপারটি আল্লাহর করুণা এবং এটি তার এই নামের বহি:প্রকাশ যে তিনি ‘সবচাইতে দয়াময়', 'অসীম দয়ালু'। যে সকল বিশ্বাসীরা এটা জানে তারা কঠিন সময়ের মুখোমুখি হলে আগ্রহ, আনন্দ এবং ধৈর্য্য প্রদর্শন করে। কারণ তারা বোঝে যে আল্লাহ প্রতিটি জিনিসই কোন না কোন ভাল উদ্দেশ্যে তৈরী করেছেন এবং তৈরী করেছেন তার ইচ্ছা অনুযায়ী:
 
আর তাঁরই কাছে অদৃশ্যের চাবিকাঠি রয়েছে, কেউ তা জানে না তিনি ছাড়া। আর তিনি জানেন যা আছে স্থলদেশে ও সমুদ্রে আর গাছের এমন একটি পাতাও পড়ে না যা তিনি জানেন না, আর নেই একটি শস্য কণাও মাটির অন্ধকারে, আর নেই কোনো তরতাজা জিনিস অথবা শুকনোবস্তু- যা রয়েছে সুস্পষ্ট কিতাবে। (সুরা আল-আনআম: ৫৯)
 
মানুষ সময়ের নিগড়ে আবদ্ধ থাকায় তারা যে কোন ঘটনাকে উপলব্ধি করতে পারে কেবল একেকটি মূহুর্তের দিকে তাকিয়ে। তারা যেহেতু ভবিষ্যত জানতে পারে না, সেহেতু তারা কোন একটি ঘটনার সুদুরপ্রসারী কারণ, এর ভাল দিক, এবং উদ্দেশ্য দেখতে পায় না। কিন্তু আল্লাহ, যিনি সময়ের স্রষ্টা এবং এ কারণে সময়ের উর্দ্ধে, তিনি সকলের জীবনকে পর্যবেক্ষন করেন সময়ের সীমার বাইরে থেকে। সুতরাং, ভাগ্য হচ্ছে সকল বর্তমান, অতীত ও ভবিষ্যত সম্পর্কে আল্লাহর জ্ঞান। এ তিনটি কাল তাঁর কাছে এমনভাবে প্রতিভাত যেন একটি মূহুর্ত। অন্যকথায়, ভবিষ্যতের ঘটনাগুলো কেবল আমরাই জানতে পারি না। এজন্য, এই পৃথিবীতে পরীক্ষার শুরু ও শেষ কখন তা পরিস্কার। তাঁর কাছে অতীত, বর্তমান, ভবিষ্যত সবই এক, কেননা তিনি সময়-যেটা মানুষের জন্য তৈরী একটি বিষয়- সেটি দ্বারা আবদ্ধ নন। কিন্তু আমরা সামনের ঘটনাগুলো তখনই জানতে পারি যখন আমরা সেগুলোর সম্মুখীন হই এবং সেখান থেকে শিক্ষা লাভ করি।
 
যারা ভাগ্যে বিশ্বাস করে তারা সকল অবস্থায় ধৈর্য্য ধারণ করে এবং এটা জেনে আরাম বোধ করে যে সবকিছুই তাঁর হুকুমেই হয়: কোন বিপদ আপতিত হয় না আল্লাহর অনুমতি ব্যতীত। আর যে কেউ আল্লাহতে বিশ্বাস করে তিনি তার হৃদয়কে সুপথে চালিত করেন। আর আল্লাহ্ সব-কিছু সন্মন্ধে সর্বজ্ঞাতা। (সুরা আত-তাগাবুন: ১১) যারা অবিশ্বাসী- যাদের ভাগ্য সম্পর্কে কোন জ্ঞান নেই- তারা ব্যাপক দুশ্চিন্তা, চাপ ও অসন্তুষ্টিতে ভুগতে থাকে, যে সমস্যা বিশ্বাসীরা কখনই অনুভব করে না। বিশ্বাসীরা আল্লাহর রহমতস্বরূপ সন্তুষ্টচিত্ত থাকে, এই ভেবে নিরাপদ অনুভব করে যে তার আল্লাহর অসীম দয়া দ্বারা পরিবেষ্টিত আছে এবং প্রতিটি ঘটনার পিছনে একটি উদ্দেশ্য আছে।
 
বিশ্বাসীরাও দুশ্চিন্তা ও কাঠিন্যের সম্মুখীন হতে পারে যেমন সম্পদ অথবা শারীরিক শক্তির ক্ষতি হওয়া, রোগব্যধী, আঘাত, বা মৃত্যু। কিন্তু তারা এগুলোকে পরীক্ষা হিসেবে বিবেচনা করে এবং মনে করে এগুলো সর্বাধিক দয়ালু, পরম দয়ালু নামের বহি:প্রকাশ। তারা বুঝতে পারে যে, এই ধরনের পরিস্থিতিতে তাদের মূল্যবোধই আল্লাহর কাছে গুরুত্ব বহন করে। বিশ্বাসীরা এই প্রশান্ত অবস্থার কারণে যে কোন বিপদই কোন প্রকার দু:খ, কষ্ট, ব্যথা, ভয়ভীতি (যা অবিশ্বাসীদের মধ্যে সাধারন) ছাড়াই তারা মোকাবেলা করতে পারে।  আল্লাহ তাদের সামনে আপাত খারাপকে ভাল দিয়ে রূপান্তরিত করে দিবেন, তাদেরকে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ করে দিবেন এবং তাদেরকে তাদের ধৈর্য্য ও সহনশীলতার জন্য ইহকাল ও পরকাল উভয় স্থানেই পুরস্কৃত করবেন: .. আল্লাহ কখনই অবিশ্বাসীদের মুমিনদের উপর পথ করে দিবেন না। (সুরা নিসা:১৪১) যারা আল্লাহর উপর আস্থা ও নির্ভরতা রাখে তারা কোন ভয় বা দু:খ অনুভব করে না:
 
নি:সন্দেহে যারা বলেআমার প্রভু হচ্ছেন আল্লাহ, তারপর কায়েম থাকে, তাদের উপর কোনো ভয় নেই, আর তারা নিজেরা অনুতাপও করবে না। (সুরা আল-আহকাফ: ১৩)
 
না, যে কেউ আল্লাহর তরফে নিজের মুখ পূর্ণ-সমর্পন করেছে ও সে সৎকর্মী, তার জন্য তার পুরস্কার আছে তার প্রভুর দরবারে; আর তাদের উপরে কোনো ভয় নেই, আর তারা অনুতাপও করবে না। (সুরা বাকারা:১১২)
 
জেনে রেখো! নি:সন্দেহে আল্লাহর বন্ধুরাতাদের উপরে কোনো ভয় নেই, আর তারা অনুতাপও করবে না। যারা বিশ্বাস স্থাপন করে ও ভয়ভক্তি করে তাদের জন্য রয়েছে সুসংবাদ এই পৃথিবীর জীবনে এবং পরকালে। আল্লাহর বাণীর কোনো পরিবর্তন নেই;-- এটিই হচ্ছে মহা সাফল্য। (সুরা ইউনুছ: ৬২-৬৪)
 
আল্লাহ আরও বলেন যে যারা তার প্রতি বিশ্বাস রাখে এবং তার নিকট আত্মসমর্পন করে তারা সবচেয়ে শক্ত হাতল এর ধরেছে, যেটা কখনই ভাঙ্গবে না:
 
আর যে তার মুখ আল্লাহর প্রতি পূর্ণ সমর্পণ করে আর সে সৎকর্মপরায়ণ হয়, তাহলে তো সে এক মজবুত হাতল পাকড়ে ধরেছে। আর আল্লাহর কাছেই রয়েছে সকল বিষয়ের পরিণাম। (সুরা লোকমান: ২২)
 
ধর্মে জবরদস্তি নেই; নি:সন্দেহ সত্যপথ ভ্রান্তপথ থেকে সুস্পষ্ট করা হয়ে গেছে। অতএব যে তাগুতকে অস্বীকার করে এবং আল্লাহতে ঈমান আনে সেই তবে ধরেছে একটি শক্ত হাতল, -- তা কখনো ভাঙবার নয়। আর আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞাতা। (সুরা বাকার: ২৫৬)

 

 

 

বিশ্বাসীরা কঠিন পরিস্থিতি এবং উদ্বিগ্ন দশায় যে উৎসাহ, উদ্দিপণা ও মজবুত চরিত্র প্রদর্শন করে তা তাদের আল্লাহর প্রতি, ভাগ্যের প্রতি এবং পরকালের প্রতি বিশ্বাস থেকে এবং আল্লাহর নিকট তাদের আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে আসে। নবীগণ এবং আন্তরিক বিশ্বাসীগন হচ্ছে এধরণের আত্মসমর্পণ ও বীর্য্যের উদাহরন। এই ব্যক্তিদের মধ্যে আছে ফেরাউনের কোর্টের যাদুকররা যারা মুসা (আ:) এর পথে মৃত্যুকে শ্রেয় মনে করেছিল এবং পরে ফেরাউন কতৃক হত্যার হুমকির সম্মুখীন হয়েছিল।
 
ফেরাউন এই বিশ্বাসীদেরকে নির্যাতন ও মৃত্যুর হুমকি দিয়ে সোজা পথ থেকে বিচ্যুত করতে চেয়েছিল। সে ভেবেছিল যে তার সেনাবাহিনী ও তার শক্তির সামনে বিশ্বাসীর সাহসহারা হয়ে পড়বে কিন্তু তারা বলেছিল যে তারা কেবল আল্লাহকেই ভয় ও সম্মান করে, যার নিকটে তারা কঠিন সময়ে সাহায্য প্রার্থনা করে। এভাবে তারা আল্লাহর উপর তাদের বিশ্বাসলব্ধ আস্থা ও সমর্পণ থেকে বিচ্যুতির আহবানকে পরিত্যাগ করেছিল:
 
সে বললে—“তোমরা তার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করলে আমি তোমাদের অনুমতি দেবার আগেই? সে-ই দেখছি তবে তোমাদের জাদুবিদ্যা শিখিয়েছে। কাজেই আমি নিশ্চয়ই তোমাদের হাত ও তোমাদের পা আড়াআড়িভাবে কেটে ফেলবই, আর আমি অবশ্যই তোমাদের শূলে চড়াব খেজুর গাছের কান্ডে; আর তোমরা অবশ্যই জানতে পারবে আমাদের মধ্যে কার দেওয়া শক্তি বেশী কঠোর ও দীর্ঘস্হায়ী। তারা বললে—“আমরা কখনই তোমাকে অধিকতর গুরুত্ব দেব না সুস্পষ্ট প্রমাণের যা আমাদের কাছে এসেছে ও যিনি আমাদের সৃষ্টি করেছেন সে-সবের উপরে; কাজেই তুমি যা রায় দিতে চাও। তুমি তো রায় দিতে পার কেবল এই দুনিয়ার জীবন সন্মন্ধে। নি:সন্দেহে আমরা আমাদের প্রভুর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করেছি, যাতে তিনি ক্ষমা করেন আমাদের অপরাধসমূহ আর যেসব জাদুর প্রতি তুমি আমাদের বাধ্য করেছিলে। আর আল্লাহই সর্বশ্রেষ্ঠ ও চিরস্থায়ী। (সুরা তা-হা: ৭১-৭৩)  
]]>
http://bn.harunyahya.com/bn/প্রবন্ধ/21799/সবকিছুই-ভাগ্যে-লিপিবদ্ধ-আছেhttp://bn.harunyahya.com/bn/প্রবন্ধ/21799/সবকিছুই-ভাগ্যে-লিপিবদ্ধ-আছেThu, 18 Mar 2010 16:00:42 +0200
মৃত্যুর আসন্ন মূহুর্ত
আপনি কি বুঝতে পারেন যে আপনার মৃত্যুর ঘন্টা ইতিমধ্যেই বাজতে শুরু করেছে। আপনার মৃত্যু ঠিক তেমনি বাস্তব যেমন আপনার জীবন। কিন্তু অধিকাংশ মানুষই এই সত্যটিকে এড়িয়ে যায়। তারা পৃথিবীর জীবন নিয়ে এতটাই ব্যস্ত, মনে হয় যেন তারা অনন্তকাল বেঁচে থাকবে। তাদের সামনে কোন মূহুর্তে কোন মৃত্যুর ঘটনা ঘটলেও তারা সাথে সাথেই সেটা ভুলে যেতে চায় এবং তাদের দুনিয়াবী ব্যস্ততায় হারিয়ে যায়।
 
মানুষ সাধারণত মৃত্যুকে ভুলে থাকার জন্য পৃথিবীকেন্দ্রিক ব্যস্ততাকে মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করে। পৃথিবীর ব্যস্ততার বাহনগুলো তাকে খুব দ্রুত এই পৃথিবীর মধ্যে নিমজ্জিত করে এবং তাদেরকে জ্ঞানহীন জীবন যাপনের দিকে ধাবিত করে। মানুষ তখন এমন একটি মানসিক অবস্থায় প্রবেশ করে যে সে পরকালকে ভুলে যায় এবং একটি নিয়মাবদ্ধ চক্রে জীবন অতিবাহিত করতে শুরু করে। পৃথিবীর এই অস্থায়ী জীবনের উদ্বেগ উৎকন্ঠা তাকে এমনভাবে শাস্তি দেয় যে সে তার মৃত্যুর কথা ভুলে যায় এবং ভুলে যায় যে একদিন তাকে আল্লাহর কাছে তার কাজের জন্য জবাবদিহি করতে হবে।
 
কিছু লোক এভাবেই জীবন অতিবাহিত করে। এমনকি তারা যদি তাদের এই জীবনযাত্রার জন্য অসুখীও হয় তবু তারা তাদের এ জীবনের সংকীর্ণ প্রকৃতির কথা বুঝতে অক্ষম হয়; কেননা তারা গভীরভাবে চিন্তা করতে পারে না। অথচ আল্লাহ যেই মূহুর্তে তার মৃত্যু লিখে রেখেছেন মৃত্যুর সেই নিশ্চিত মূহুর্তটি তার দিকে ঘনিয়ে আসছে প্রতিটি মিনিট, প্রতিটি ঘন্টা এবং প্রতিটি পার হয়ে যাওয়া দিনের সাথে সাথে। যারা এই সত্যটিকে গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করে তারা মৃত্যুর এই অনিশ্চয়তা নিয়ে চিন্তা করে এবং পৃথিবীর উদ্বেগ উত্তেজনায় সময় নষ্ট না করে, তাদের রবের সন্তুষ্টির সন্ধানে রত থাকে।   তারা কখনই ভুলে যায় না যে পরকালে তার জন্য একটি অসীম জীবন অপেক্ষা করছে এবং জান্নাতে যেতে হলে তাকে অবশ্যই আল্লাহর অনুমতি আদায় করে নিতে হবে। একদিন আল্লাহর সম্মুখে জবাবদিহি করতে হবে এই শিক্ষা যার জীবনে আছে, সে একটি যৌক্তিক, উন্নত ও প্রশান্ত জীবন  লাভ করে। আল্লাহকে ভালবাসা এবং আল্লাহকে ভয় পাওয়ার মধ্যে যে মানসিক শান্তি ও আনন্দ আছে সে প্রতিটি মূহুর্তে তা অনুভব করতে থাকে। সে অনন্ত জান্নাতের আনন্দ উপভোগ করে। তার জীবনকালকে দুনিয়াদারীতে অপব্যয় না করার ফসল হিসেবে তার মধ্যে সর্বদা আরামবোধ ও পরিতৃপ্তি কাজ করতে থাকে।
 
অতএব, যে ব্যক্তি এই সচেতনতা বজায় রেখে তার কর্মকান্ড পরিচালনা করতে চায় তার এটা ভুলে যাওয়া চলবে না যে, তার নির্ধারিত মৃত্যুর মূহুর্তটি দ্রুত তার দিকে ধেয়ে আসছে। এই বিষয়টির দিকে খেয়াল রেখে জীবন পরিচালনা করলে একদিকে যেমন তার এই পৃথিবীর ভাল কাজের পরিমাণ বাড়তে থাকবে তেমনি তার পরকালের জন্য প্রস্তুত থাকবে একটি চমৎকার জীবন। এই পৃথিবীতে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য যে কাজগুলো করা হয় তা পরকালে তাঁর করুণা ও বেহেশত পাওয়ার উত্তম উপায়। কোন সন্দেহ নেই যে, আল্লাহই সবচেয়ে ভাল জানেন।
]]>
http://bn.harunyahya.com/bn/প্রবন্ধ/21797/মৃত্যুর-আসন্ন-মূহুর্তhttp://bn.harunyahya.com/bn/প্রবন্ধ/21797/মৃত্যুর-আসন্ন-মূহুর্তhttp://fs.fmanager.net/Image/objects/23-guncel-yorumlar/9392_yaklasan_olum_ani.jpgThu, 18 Mar 2010 15:53:03 +0200